ইমাম মাহদীর আগমনের আলামত সমূহ

আরবি ক্যালেন্ডার মতে সৌদিআরবে এই বছর ১৪৪১ হিজরি ১ম ও ১৫ তম রমজান শুক্রবার হয়। আবার হিজরি ১৪৪৯ সালও ১ম ও ১৫ তম রমজান শুক্রবার হয়। বিস্তারিত জানতে এই পোস্টটি পড়ুন

ইমাম মাহদীর আগমনের আলামত সমূহ

ইমাম মাহদি এই শতাব্দীতে আসবেন। (১৪০০) চৌদ্দশত শতাব্দীতেই ইমাম মাহদীর আগমনের কথা কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী । এটা কোন সাধারণ মানুষের কথা নয় । সয়ং আল্লাহ্’র এবং তাঁর রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এর কথা । আজ যারা একথার বিরোধীতা করবে তারা কাফির।

অতঃএব চৌদ্দশ শতকে ইমাম মাহদী অবশ্যই আসতে হবে, এটাই তাঁর আসার জন্য পূর্ব নির্ধারিত যুগ । ইনশাল্লাহ ১৪ শতাব্দীতে ইমাম মাহদি আসবেন। হযরত আবু হুরায়রাহ(রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে রাসুলুল্লাহ(সঃ) বলেছেন “মহান আল্লাহ্ এই উম্মতের জন্য প্রতি শতাব্দীর শুরুতে একজন মুজাদ্দিদ পাঠাবেন যিনি ঐ সময়ে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে সঞ্চারিত করবেন” (সুনান আবু দাউদ ৫/১০০)


ইমাম মেহেদী যে শেষ সময়ের মুজাদ্দিদ এই বিষয়ে সুস্পষ্ট হাদিস বর্ণিত আছে ।
হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুল (সঃ) বলেছেন,
“এই পৃথিবীর যদি মাত্র একদিন বাকি থাকে আল্লাহ্ সেই দিনটিকে প্রলম্বিত করে দিবেন যতক্ষন না আমার বংশধরের থেকে একজন প্রেরিত হয়।”
(সুনান আবু দাউদ, ৫/৯২)

জুলুম-অত্যাচারের রাজত্বের পর আবার পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসার কথা ইমাম মাহদির (আ.) আগমনের মাধ্যমে। অনেকেই মনে করেন, আমরা নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত সবই পালন করছি ও মানছি তাহলে আবার ইমাম মাহদি আসার কি প্রয়োজন আছে? আবার উম্মতের বেশির ভাগ তার আগমনের অপোয় দিন গুনছেন? ইতোমধ্যে অনেক পীর-মাওলানা ইমাম মাহদির আগমনের দিন-তারিখও উল্লেখ করে গেছেন। এ ছাড়া তার আগমনের বিষয়ে মহানবীও (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো তিনি কখন আসবেন?


মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার শতাব্দী সর্বোৎকৃষ্ট, তারপর উহার সন্নিহিতরা, তারপর উহার সন্নিহিতরা, অতঃপর মিথ্যার প্রাদুর্ভাব হবে’ (নেসাই ও মিশকাত)। মহানবীর (সা.) সোনালি যুগ ৩০০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে এক হাজার বছর পর ইমাম মাহদির আবির্ভাব হওয়ার কথা।


ইমাম মেহেদীর আগমন সংক্রান্ত যেসব আলামত হাদিসে বর্ণিত আছে তা এই হিজরি শতাব্দীতে (১৪০০) এমনভাবে প্রকাশিত হচ্ছে যেমনভাবে একটি পুঁথির মালা ছিড়ে গেলে পুঁথিগুলো পরপর পড়তে থাকে। সেই হিসাবে এটা বলাই যায় যে ইমাম মেহেদী এই এই হিজরি শতকে আত্মপ্রকাশ করবেন। বর্তমান সময়ে তুরুস্কের লেখক হারুন ইয়াহিয়া এই বিষয়টিকে পবিত্র কোরআন এবং সহীহ হাদিসের আলোকে তুলে ধরেছেন। তার লেখার বাংলা অনুবাদ সেভাবে করা হয়নি। সম্মানিত পাঠকদেরকে এই বিষয়ে জানাবার প্রয়াস থেকে এই উদ্যোগ। আমরা ইতিপূর্বে আমাদের আগের পোস্টগুলোতে ইমাম মেহেদী আসার ব্যাপারে ধর্মীয় আলামতগুলো প্রকাশ করেছি । এই পোস্টে ইমাম মেহেদী আসা বিষয়ক মহাজাগতিক আলামতগুলোর মধ্যে দুটি তুলে ধরেছি প্রয়োজনীয় রেফারেন্সসহ। পরবর্তীতে বাকিগুলো দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ্।

মহাজাগতিক আলামত সমৃূহ ইমাম মাহদির অপেক্ষায়ঃ রমজান মাসে চন্দ্র এং সূর্য গ্রহন হওয়া।
“ইমাম মেহেদী আসার দুইটা নিদর্শন…… রমজানের প্রথম রাতে চন্দ্রগ্রহন এবং দ্বিতীয়টা হোলো এই মাসের মধ্যবর্তী সময়ে সূর্যগ্রহন।”
(ইবনে হাযার আল হাইতামী, আল- কাওয়াল আল মুখতাসার ফি আলামাত আল মেহদী আল মুন্তাধার, পৃঃ ৪৯)
(মুহাম্মাদ ইবনে আবদ আল – রাসুল বারযানজি, আল – ইশাআহ লি আসরাত আস সা’আহ, পৃঃ ১৯৯)
“ইমাম মেহেদীর আমলে রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে সূর্যগ্রহন হবে এবং মাসের শুরুতে চন্দ্র অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে।”
(ইমাম রাব্বানী, লেটারস অব রাব্বানী, ২:১১৬৩)।
“রমজান মাসের মধ্যে হবে সূর্যগ্রহন এবং শেষে হবে চন্দ্রগ্রহন।”
(আল-মুত্তাকী আল হিন্দি, আল বুরহান ফি আলামাত আল মেহদী আখির আল জামানা, পৃঃ৩৮)।
“হযরত মেহেদী আসার পূর্বে রমজান মাসে দুইটি চন্দ্রগ্রহন হবে।”
(মুহাম্মাদ ইবনে আবদ আল – রাসুল বারযানজি, আল – ইশাআহ লি আসরাত আস সা’আহ, পৃঃ ২০০)
“ইমাম মেহেদীর আগমনের আগে রমজান মাসে দুইটি সূর্যগ্রহন হবে।”
(আস-সারানী, মুখতাসার তাযকিরাহ আল-কুরতুবি, পৃঃ ৪৪০)


এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল রমজান মাসের মধ্যবর্তী সময়ে সূর্যগ্রহন এবং একই মাসে দুইবারকরেচন্দ্রগ্রহন ও সূর্যগ্রহন; যা স্বাভাবিক অবস্থায় হয় না।যাইহোক অন্যান্য আলামতগুলো কিছু নির্দিষ্ট কারণে হয় এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব।
একটু মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করলে দেখা যায় উপরোক্ত ঘটনার ব্যাপারে হাদিসগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা আছে। প্রথম দুইটি হাদিসের বর্ণনা অনুসারে রমজান মাসের প্রথম দিনে চন্দ্রগ্রহন হবে এবং তৃতীয়টি অনুসারে মাসের শেষে চন্দ্রগ্রহন হবে। এক্ষেত্রে ব্যাখ্যার সঠিক পথটি হোলো এই হাদিসগুলো থেকে সাদৃশ্যগুলো অনুধাবন করা।


উপরে বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে যে বিষয়গুলো পরিস্কার হয় সেগুলো হচ্ছে
 রমজান মাসে চন্দ্র এবং সূর্য গ্রহন হবে।
 এই গ্রহনগুলোর মধ্যবর্তী সময় সমান হবে (১৪-১৫ দিনের ব্যবধান)।
 এই গ্রহনগুলো দুইবার পুনরাবৃত্তি হবে।
এই হিসাবের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করলে দেখা যায়………


 ১৫ রমজান শুক্রবার ১৪০১ হিজরি ইংরেজি ১৭ জুলাই ১৯৮১ সালে চন্দ্রগ্রহন হয়েছিল।
রেফারেন্স ১
রেফারেন্সে ২


 ২৯ রমজান শুক্রবার ১৪০১ হিজরি ইংরেজি ৩১ জুলাই ১৯৮১ সালে সূর্যগ্রহন হয়েছিল।
রেফারেন্স ১
রেফারেন্স ২


 ১৫ রমজান মঙ্গলবার ১৪০২ হিজরি ইংরেজি ৬ জুলাই ১৯৮২ সালে আবার চন্দ্রগ্রহন হয়েছিল।
রেফারেন্স ১
রেফারেন্স ২


 ২৯ রমজান মঙ্গলবার ১৪০২ হিজরি ইংরেজি ২০ জুলাই ১৯৮২ সালে পুনরায় সূর্যগ্রহন হয়েছিল।
রেফারেন্স ১
রেফারেন্স ২


হাদিসে বর্ণিত অন্যান্য আলামতের মত উপরোক্ত ঘটনাগুলোও অলৌকিকভাবে হিজরি ১৪০০ সালের শুরুর দিকে পরপর ২ বৎসর (১৪০১, ১৪০২) সংগঠিত হয় যা ইমাম মেহেদীর আগমনের ব্যাপারে ইঙ্গিতপূর্ণ।

ইমাম মাহদি এর আগমনের বছরের লক্ষণ সেই বছরের রমজান মাস থেকেই প্রকাশ পাবে। 
ফিরোজ দায়লামি বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন এক রমজানে আওয়াজ আসবে”।সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের শুরুতে? নাকি মাঝামাঝি সময়ে? নাকি শেষ দিকে’? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “না, বরং রমজানের মাঝামাঝি সময়ে। ঠিক মধ্য রমজানের রাতে। শুক্রবার রাতে আকাশ থেকে একটি শব্দ আসবে। সেই শব্দের প্রচণ্ডতায় সত্তর হাজার মানুষ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবে আর সত্তর হাজার বধির হয়ে যাবে”। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার উম্মতের কারা সেদিন নিরাপদ থাকবে’? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “যারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থানরত থাকবে, সিজদায় লুটিয়ে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং উচ্চ শব্দে আল্লাহু আকবর বলবে। পরে আরও একটি শব্দ আসবে। প্রথম শব্দটি হবে জিব্রাইল এর, দ্বিতীয়টি হবে শয়তানের। 

ঘটনার পরম্পরা এরূপঃ শব্দ আসবে রমজানে। ঘোরতর যুদ্ধ সংঘটিত হবে শাওয়ালে। আরবের গোত্রগুলো বিদ্রোহ করবে জুলকা’দা মাসে। হাজী লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটবে জিলজ্জ মাসে। আর মুহাররমের শুরুটা আমার উম্মতের জন্য বিপদ। শেষটা মুক্তি। সেদিন মুসলমান যে বাহনে চড়ে মুক্তি লাভ করবে, সেটি তার কাছে এক লাখ মূল্যের বিনোদন সামগ্রীতে পরিপূর্ণ ঘরের চেয়েও বেশি উত্তম বলে বিবেচিত হবে”। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১০)

অপর এক বর্ণনায় আছে,“… সত্তর হাজার মানুষ ভয়ে পথ হারিয়ে ফেলবে। সত্তর হাজার অন্ধ হয়ে যাবে। সত্তর হাজার বোবা হয়ে যাবে এবং সত্তর হাজার বালিকার যৌনপর্দা ফেটে যাবে”। (আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান)হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“রমজানে আওয়াজ আসবে। জুলকা’দায় গোত্রগুলো বিদ্রোহ করবে আর জিলহজ্জ মাসে হাজীলুণ্ঠনের ঘটনা ঘটবে”। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১০)
হযরত আমর ইবনে শু’আইব এর দাদা বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“জুলকা’দা মাসে বিভিন্ন গোত্রের মাঝে দ্বন্দ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটবে। ফলে হজ্জ পালনকারীরা লুণ্ঠিত হবে এবং মিনায় যুদ্ধ সংগঠিত হবে। সেখানে ব্যাপক প্রানহানির ঘটনা ঘটবে এবং রক্তের স্রোত বয়ে যাবে। অবশেষে তাদের নেতা (হযরত মাহদি) পালিয়ে রোকন ও মাকামে ইব্রাহিমের মধ্যখানে চলে আসবে। তাঁর অনীহা সত্ত্বেও মানুষ তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে। তাঁকে বলা হবে, আপনি যদি আমাদের থেকে বাইয়াত নিতে অস্বীকার করেন, তাহলে আমরা আপনার ঘাড় উড়িয়ে দিব। বদর যুদ্ধের সংখ্যার সমসংখ্যক মানুষ তাঁর হাতে বায়’আত গ্রহণ করবে। সেদিন যারা তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে, আকাশ ও পৃথিবীর অধিবাসীরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে”। (মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৪৯) ———————————————তাবরানির অপর এক বর্ণনায় আছে,“বাইয়াত গ্রহণকারী মুসলমানের সংখ্যা হবে বদরী মুজাহিদগণের সংখ্যার সমান। অর্থাৎ তিনশ তের জন”। (আল মু’জামুল আসওসাত, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৭৬) 
মুসতাদরাকেরই আরেক বর্ণনায় আছে, হযরত আব্দদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেছেন,‘লোকেরা যখন পালিয়ে হযরত মাহদির কাছে আগমন করবে, তখন মাহদি কাবাকে জড়িয়ে ধরে ক্রন্দনরত অবস্থায় থাকবেন। (হযরত আব্দদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন) আমি যেন তাঁর অশ্রু দেখতে পাচ্ছি। মানুষ হযরত মাহদিকে বলবে, আসুন, আমরা আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করি। হযরত মাহদি বলবেন, আফসোস! তোমরা কত প্রতিশ্রুতিই না ভঙ্গ করেছ! কত রক্তই না ঝরিয়েছ! অবশেষে অনীহা সত্ত্বেও তিনি লোকদের থেকে বাইয়াত নেবেন। (হযরত আব্দদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন) ওহে মানুষ! তোমরা যখন তাঁকে পাবে, তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে। কারণ, তিনি দুনিয়াতেও ‘মাহদি’, আসমানেও ‘মাহদি’। 
ইমাম যুহরি বলেছেন, হযরত মাহদির আত্মপ্রকাশের বছর দুজন ঘোষক ঘোষণা করবে। একজন আকাশ থেকে, একজন পৃথিবী থেকে। আকাশের ঘোষক ঘোষণা করবে, লোকসকল! তোমাদের নেতা অমুক ব্যক্তি। আর পৃথিবীর ঘোষক ঘোষণা করবে, ওই ঘোষণাকারী মিথ্যা বলেছে। এক পর্যায়ে পৃথিবীর ঘোষণাকারী যুদ্ধ করবে। এমনকি গাছের ডাল-পাতা রক্তে লাল হয়ে যাবে। সেদিনকার বাহিনীটি সেই বাহিনী, যাকে ‘জাইশুল বারাজি’ তথা ‘জিনওয়ালা বাহিনী’ বলা হয়েছে। সেদিন যারা আকাশের ঘোষণায় সাড়া দিবে, তাদের মধ্য থেকে বদরি মুজাহিদগণের সংখ্যার সমসংখ্যক লোক তথা তিনশো তেরজন মুসলমান প্রানে রক্ষা পাবে। অপর বর্ণনায় এসেছে, মারাত্মক যুদ্ধ হবে – শেষ পর্যন্ত হকপন্থিদের মধ্যে শুধু বদর যুদ্ধের সেনাসংখ্যা (৩১৩) পরিমাণ লোক অবশিষ্ট থাকবে এবং তারা সেখান থেকে ফিরে এসে ইমাম মাহদির কাছে এসে বাইয়াত হয়ে যাবে।
হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“তোমাদের ধনভাণ্ডারের নিকট তিনজন খলীফা সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কিন্তু ধনভাণ্ডার তাদের একজনেরও হস্তগত হবে না। তারপর পূর্ব দিক থেকে কতগুলো কালো পতাকা আত্মপ্রকাশ করবে। তারা তোমাদের সাথে এমন ঘোরতর লড়াই লড়বে, যেমনটি কোন সম্প্রদায় তাদের সঙ্গে লড়েনি”।বর্ণনাকারী বলেন, তারপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন,“তারপর আল্লাহর খলীফা মাহদির আবির্ভাব ঘটবে। তোমরা যখনই তাঁকে দেখবে, তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদি এজন্য তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি খেয়ে যেতে হয়, তবুও যাবে। সে হবে আল্লাহর খলীফা মাহদি”। (সুনানে ইবনে মাজা; খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৭; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১০) 
এখানে ‘খলীফা সন্তান’ অর্থ সবাই বাদশা বা শাসকের সন্তান হবে। পিতার রাজত্বের দোহাই দিয়ে সবাই ক্ষমতার দাবী করবে। আর ‘ধন ভাণ্ডার’ দ্বারা কাবা ঘরের নিচের প্রোথিত ধন সম্পদ হতে পারে। আবার নিছক রাজত্বও হতে পারে। কারও মতে, ফোরাত নদীর স্বর্ণ পর্বতকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু রাজত্ব হবার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, 
উম্মুল মুমিনিন হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,“জনৈক খলীফার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে করে বিরোধ সৃষ্টি হবে। তখন মদিনার একজন লোক পালিয়ে মক্কা চলে আসবে (এই আশঙ্কায় যে, পাছে মানুষ আমাকে খলীফার পদে অধিষ্ঠিত করে কিনা)। মক্কার লোকেরা তাঁকে খুঁজে বের করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রুকুন এবং মাকামে ইব্রাহিমের মাঝামাঝি স্থানে বাইয়াত গ্রহণ করবে।বাইয়াতের খবর শুনে সিরিয়ার দিক থেকে এক বিশাল বাহিনী প্রেরিত হবে। মক্কা মদিনার মাঝামাঝি বায়দা নামক স্থানে এসে পৌঁছানোর পর এই বাহিনীটিকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দেওয়া হবে। বাহিনী ধ্বসের সংবাদ শুনে সিরিয়ার ‘আবদাল’ (শ্রেষ্ঠ  মুসলমানগণ) ও ইরাকের ‘আসাইব’ (সম্মানিত মুসলিম ব্যক্তিবর্গ) মক্কায় এসে তাঁর (ইমাম মাহদির) নিকট বাইয়াত হবে। অতঃপর সিরিয়ার বনু কালব গোত্রের এক কুরায়শীর আবির্ভাব হবে। সিরিয়ার দিক থেকে সে বাহিনী প্রেরণ করবে। কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে পরাস্ত করবেন, যার ফলে তাদের উপর বিপদ নেমে আসবে। এটিই হল ‘কালবের যুদ্ধ’। যে ব্যক্তি কালবের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে, সে ব্যর্থ বলে বিবেচিত হবে। তাঁরপর তিনি ধনভাণ্ডার খুলে দেবেন, মাল দৌলত বণ্টন করবেন এবং ইসলামকে বিশ্বময় খেলাফতের আদলে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন। এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে সাত বছর কিংবা (বলেছেন) নয় বছর”।(আল মু’জামুল আওসাত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫; মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদিস ৬৯৪০; ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭৫৭; আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস ৯৩১)ইসলামকে বিশ্বময় খেলাফতের আদলে (কালেমার একক পতাকার ছায়াতলে জাতীয়তাবাদহীন একক ভূখণ্ড) সুপ্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তিনি পেছন দিককার শত্রুর সাথে যুদ্ধ, রোমানদের সাথে মহাযুদ্ধ, আন্তাকিয়ার যুদ্ধ, আমকের যুদ্ধ, ফোরাতের তীরে যুদ্ধ, হিন্দুস্তানের (ভারতীয় উপমহাদেশ) যুদ্ধ, কুস্তুন্তুনিয়ার ( তুরস্কের ইস্তাম্বুল) রক্তপাতহীন যুদ্ধসহ অনেক ছোটবড় যুদ্ধ তাঁর খেলাফতকালে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী কোন লেখায় এগুলোর উপর বিষদ আলোচনা করা হবে। 
উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ“কাবা ঘরে আশ্রিত ব্যক্তির (ইমাম মাহদি) বিরুদ্ধে বিশাল বাহিনীর আগমন হবে। বায়দার প্রান্তরে পৌছা মাত্র বাহিনীর মধ্যভাগ ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। সম্মুখভাগ পেছন ভাগের সেনাদেরকে ডাকাডাকি করতে থাকবে। পরক্ষনেই সম্পূর্ণ বাহিনীকে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। ফলে সংবাদ বাহক একজন ছাড়া আর কেউ নিস্তার পাবে না”।  (মুসলিম শরীফ) 
উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেমন যেন করছিলেন। জাগ্রত হওয়ার পর জিজ্ঞেস করলাম, এমন কেন করছিলেন হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন,“খুবই আশ্চর্যের বিষয় – আমার উম্মতের কিছু লোক কাবা ঘরে আশ্রিত কুরায়শী ব্যক্তিকে (ইমাম মাহদি) হত্যার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বায়দা প্রান্তরে পৌঁছা মাত্র সবাইকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে”।আমরা বললাম, ‘পথে তো অনেক মানুষের সমাগম থাকে!!’ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,“হ্যাঁ, দর্শক, অপারগ এবং পথিক সকলকেই একত্রে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। তবে অন্তরইচ্ছা অনুযায়ী আল্লাহপাক তাদের পুনরুত্থান করবেন”। (মুসলিম শরীফ) 
উপরের হাদিসগুলো থেকে প্রতিয়মান হয় যে, যে বছর ইমাম মাহদির আগমন ঘটবে, সে বছরের রমজান থেকেই আলামত প্রকাশ পেতে থাকবে। এবং সেই বছরের মধ্য রমজান হবে শুক্রবার। 
২০২৫ সাল পর্যন্ত আগামী বছরগুলোতে মধ্য রমজান শুক্রবার হবার সম্ভাবনা যে সালগুলোতে সেগুলো হল, ২০১৪ সালের ১১ ও ১২ ই জুলাই (১৪৩৫ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার), ২০১৫ সালের ২ ও ৩ জুলাই (১৪৩৬ হিজরির ১৫ ও ১৬ ই রমজান বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার), ২০১৭ সালের ৯ ও ১০ ই জুন (১৪৩৮ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার), ২০২০ সালের ৮ই মে (১৪৪১ হিজরির ১৫ ই রমজান শুক্রবার), ২০২২ সালের ১৫ ও ১৬ ই এপ্রিল (১৪৪৩ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার), ২০২৩ সালের ৬ ও ৭ ই এপ্রিল (১৪৪৪ হিজরির ১৫ ও ১৬ ই রমজান বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) এবং ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ ই মার্চ (১৪৪৬ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার)। 

ইমাম মেহেদীর অপেক্ষায়ঃ ধূমকেতুর উদ্ভব।


“উজ্জ্বল লেজ সমৃদ্ধ এক তারকার উদ্ভব ঘটবে ইমাম মেহেদীর আগমনের পূর্বে।”
(মুহাম্মাদ ইবনে আবদ আল – রাসুল বারযানজি, আল – ইশাআহ লি আসরাত আস সা’আহ, পৃঃ ২০০)
“তার আগমনের ক্ষণ আসন্ন হলে পূর্বাকাশে একটি আলোকবর্তিকা সদৃশ্য ধুমকেতুর আবির্ভাব হবে।”
(ইবনে হাযার আল হাইতামী, আল- কাওয়াল আল মুখতাসার ফি আলামাত আল মেহদী আল মুন্তাধার, পৃঃ ৫৩।)
“চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ শেষে ঐ তারাসদৃশ্য বস্তুর উদ্ভব হবে।”
(আল-মুত্তাকী আল হিন্দি, আল বুরহান ফি আলামাত আল মেহদী আখির আল জামানা, পৃঃ৩২)।
হাদিসের বর্ণনামত হ্যালীর ধুমকেতু হিজরি ১৪০০ সালের শুরুর দশক অর্থাৎ ১৪০৬ হিজরি ইংরেজি ১৯৮৬ সালে পৃথিবীর কাছ দিয়ে যায় এবং ঐ সালেই অন্তরীক্ষ থেকে ধুমকেতুটির খুঁটিনাটি প্রথমবারের মত পর্যবেক্ষণ করা হয়। রেফারেন্স
হাদিসের বর্ণনানুসারে ধূমকেতুটি হবে…………
 উজ্জ্বল তারকাসদৃশ্য।
 গমনপথ ছিল পূর্ব থেকে পশ্চিম।
 চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ সংক্রান্ত আলামতটি(১৯৮১-১৯৮২) প্রকাশিতহবার পর হ্যালীর ধুমকেতুর আগমন।
ইমাম মেহেদীর আগমনের অন্যান্য আলামতের মত ১৪০০ হিজরির শুরুতে হ্যালীর ধুমকেতুর আগমন তাৎপর্যপূর্ণ। যেহেতু হাদিসের বর্ণনা অনুসারে আলামতসমূহ ১৪০০ হিজরির থেকে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে একের পর এক যা অন্যকোন শতাব্দীতে এভাবে সংঘটিত হয়নি সেহেতু বলা যায় হাদিসে উল্লেখিত মহাজাগতিক বস্তুটি বস্তুতুই হ্যালীর ধুমকেতু এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
এখন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে হ্যালীর ধুমকেতু প্রতি ৭৬ বছর পর পর আসে এতে অসাধারণত্বের কি আছে?

এই সিরিজের শুরুতেই বলা হয়েছিল আল্লাহর আসলে চোখে আঙ্গুল দিয়ে নিদর্শন প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই, আমাদের নিত্যদিনের স্বাভাবিক ঘটনাবলীর মধ্যেই নিদর্শন আছে শুধু প্রয়োজন মনোযোগ দিয়ে খোঁজ করা। যারা বিশ্বাস নিয়ে নিদর্শনসমুহের খোঁজ করে তাদের সামনে নিদর্শনসমূহ প্রতীয়মান হয় কিন্তু যারা সন্দেহবাদী তারা সব সময়ই গোমরাহির মধ্যে থাকে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে
“নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।”
সুরাঃ আশ-শুয়াআরা, আয়াতঃ ১০৩
“বিশ্বাসকারীদের জন্যে পৃথিবীতে নিদর্শনাবলী রয়েছে,”
সুরাঃ আদ-দারিয়াত, আয়াতঃ ২০


হ্যালীর ধুমকেতু সম্পর্কিত কিছু চমক জাগানিয়া তথ্য


• আশ্চর্যজনকভাবে হ্যালীর ধুমকেতুর সাথে সম্পর্কিত কিছু সংখ্যা ১৯ এর গুনিতক। যেমন হ্যালীর ধুমকেতু প্রতি ৭৬ বছর পর পর আসে, (১৯x ৪=৭৬)।
• এটা শেষবার দেখা গিয়েছে ১৪০৬ হিজরিতে, (১৯ x ৭৪=১৪০৬)।
• নবী (সঃ) নবুয়াত লাভের পর এটা হ্যালীর ধুমকেতুর ১৯ তম বার আগমন।
১৯ সংখ্যার বিশেষত্বের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের সুরা মুদাসসের (সুরা নং-৭৪) ৩০ নং আয়াতে বর্ণিত আছে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে যে রাসূলে করীম (সাঃ)- এর ইন্তেকালের পর ইমাম মাহদী হওয়ার দাবীদার বহুলোকের আবির্ভাব এই পৃথিবীতে ঘটেছে এবং ঘটছে। প্রকৃত মাহদীর আত্মপ্রকাশের পূর্বে বহুলোক মিথ্যা মাহদী সেজে মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে।টএর মধ্যে (১) মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (২) সিরিয়ার এক বিভ্রান্ত যুবক (৩) বাংলাদেশের অন্তর্গত বরিশালের এক ভন্ড মাওলানা (৪) দক্ষিণ ইয়েমেনের একজন বস্ত্র ব্যবসায়ী (৫) ইরানের একজন সিয়া নেতা এবং (৬) ১৪০০ হিজরীর শুভলগ্নে পবিত্র কাবা গৃহ দখলকারী এক মোহাম্মদ নামধারী যুবক ভন্ড মাহদী রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
কিন্তু তাদের কারোরই পরিণাম সুখের হয় নাই। মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী পায়খানায় পড়ে প্রাণ হারায়। সিরিয়ার বিভ্রান্ত যুবকটিকে বিষাক্ত বিচ্ছু কামড়িয়ে হত্যা করে। ভন্ড মাওলানাটি পেশাব পায়খানা চাটতে চাটতে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। বস্ত্র ব্যবাসায়ীটি বন্য কুকুরের আক্রমনে মারা যায়। শিয়া নেতাটি গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে বলে শোনা যায়। অনুরূপভাবে ভন্ড নবী দাবীদারগণের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ ও মর্মন্তুদ হয়েছিল। সুতরাং পৃথিবীর এই ক্রান্তিলগ্নে প্রকৃত মাহদীর পরিচয় জেনে রাখা প্রতিটি মুমীন বান্দার অবশ্য কর্তব্য।


মাহদী শব্দটির মূলধাতু হচ্ছে ‘হাদিউন’ অর্থাৎ ‘হা’ বর্ণ, ‘দাল’ বর্ণ ও ‘ইয়া’ বর্ণ। এর আভিধানিক অর্থ হল সুপথ, মঙ্গল পথ, সোজা পথ, আলোকিত পথ, যে পথে মঞ্জিলে মকছুদে পৌঁছা যায়, যে পথে প্রকৃত সত্তার উপলব্ধি সহজ হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে মাহদী শব্দের ব্যবহারিক অর্থ দাঁড়ায় সুপথ প্রাপ্ত কর্ণধার, হেদায়েত দানকারী ও আল্লাহ পাকের রেজামন্দি লাভকারী। সুতরাং ইমাম মাহদী উচ্ছৃংখল মানব গোষ্ঠি ও সত্যপথ হতে বিচ্যুত মানব সমাজকে হেদায়েতপূর্ণ আলোকে আলোকিত করবেন এবং আলাহর সঙ্গে ও বান্দার সঙ্গে ঈমানের নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করবেন।
(আল মুনজেদ, লেছানুল আরব, মিছবাহ)


ইমাম মাহদী নিয়মিতভাবে কোন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বা অন্য কোথাও লেখাপড়া করবেন না। এমনকি কোন সামরিক প্রশিক্ষণও তিনি কোন সামরিক একাডেমী থেকে গ্রহন করবেন না। তার ‘এলমে লাদুন্নী’ অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান- বিজ্ঞান থাকবে। নিয়মিত কোন বিদ্যালয়ে না পড়েও তিনি অগাধ জ্ঞান- গরীমা ও মনীষার অধিকারী হবেন। ভূগোল, দর্শন, ইতিহাস, বিজ্ঞান, শিল্প, কৃষি, সাহিত্য, চারু ও কারুকলা, প্রকৌশল বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি বিজ্ঞান, সমর বিজ্ঞান, অস্ত্রচালনা, সৈন্য পরিচালনা, বক্তৃতা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি প্রভৃত জ্ঞান ও বিবেক বিবেচনার অধিকারী হবেন। পৃথিবীর প্রত্যেক বিষয়ের জ্ঞানের আধাররুপে তিনি আবির্ভূত হবেন।
(সারাংশ মেশকাত ও আবু দাউদ শ রীফ)


হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে, ইমাম মাহদী রাসূলুল্লাহ (সাঃ)- এর বংশে এবং খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতেমা জোহরার (রাঃ) আওলাদের মধ্যে থেকে আবির্ভূত হবেন। তার মাতা-পিতার বংশ সূত্র হযরত হাসান (রাঃ)-এর সাথে মিলিত হবে।
তার শারীরিক গঠন অজ্ঞাবয়ব একটু লম্বা ধরনের হবে। যে কোন দলে বা যে কোন কাতারে দাঁড়ালে তাকে সকলের উর্ধে দেখা যাবে। তার গায়ের রং খুবই উজ্জল হবে এবং শরীর হবে নিখুঁত ও ছিমছাম। তার মুখমন্ডলে একটি বিশেষ নূরের জ্যোতি বিকশিত থাকবে। নাক উন্নত ও চেহারা সুগঠিত হবে। তাছাড়া তার চেহারা হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর চেহারার অনুরুপ হবে।
(মুসলিম ও আবু দাউদ শরীফ)

তার নাম হবে মোহাম্মদ। পিতার নাম হবে আব দুল্লাহ এবং মাতার নাম হবে আমেনা। তার মুখে সামান্য তোতলামী জড়তা থাকবে। এইজন্য কথা বলবার সময় তার একটূ কষ্ট হবে এবং কোন কোন কথা বলবার সময় ঐ কষ্টের কারনে বিরক্ত হয়ে নিজের উরুর উপর হাত মারবেন।
(আবু দাউদ শরীফ)


হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, ট্রাঞ্চ আকছানীয়া হতে হারেছ হাররাছ নামক এক ব্যক্তি বের হবে। তার সম্মুখ ভাগে থাকবে মানসুর নামে এক ব্যক্তি। যেরুপ কোরেশগণ [এখানে কোরেশের অর্থ ঐ কোরেশগণ যারা মসুলমান। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)- কে বসবাস করতে সাহায্য করেছিল, তদ্রুপ সে মোহাম্মদের (সাঃ) বংশধরগণকেও বসবাস করতে দিবে। তাকে (সর্বতভাবে) সাহায্য করা প্রত্যেক ঈমান দারের অবশ্য কর্তব্য।
(আবু দাউদ শ রীফ)


হযরত ইছহাক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আলী (রা) তাঁর ছেলে হাছানের (রাঃ) দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, যেমন হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) আমার ছেলে হাছানকে (রাঃ) বলেছিলেন, সেরকমভাবেই; তার বংশ হতে এমন একজন জন্ম গ্রহ্ন করবে যার নাম হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এর নাম অনুসারে রাখা হবে। তার শরীর আঁ হযরতের (সাঃ) দেহ মোবারকের মতই হবে। তারপর হযরত আলী (রাঃ) তার সম্পর্কে বিবৃতি দিলেন। তিনি সুবিচার ও ইনসাফ এর মাধ্যমে পৃথিবীকে পরিপূর্ণ করবেন।


হযরত ছাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমরা খোরাছান হতে কালো পতাকা দেখতে পাবে তখন তাদের সাথে যোগদান করবে। কেননা আল্লাহর খলীফা মাহদী তাদের ভিতরে থাকবেন। (মাছনাদে আহমদ ও বায়হাকী শরীফ) সেই সকল হারেছ হারাছের। যার নাম ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম মাহদী (রাঃ) তাদের মধ্যে থাকবেন।


যখন ইমাম মাহদীর বয়স চল্লিশ বছর পরিপূর্ণ হবে এবং যখন তিনি খেলাফতের গুরুভার বহন করার ক্ষমতা অর্জন করবেন তখন তার আবির্ভাব ঘটবে। তার আবির্ভাবের পূর্ব মুহূর্তে পবিত্র রমজান মাসে চন্দ্র গ্রহন ও সূর্য গ্রহন হবে। যে বছরে এই অলৌকিক কান্ড ঘটবে সেই বছরই ইমাম মাহদীর আবির্ভাব ঘটবে।
(মেশকাত শরীফ)


তার আবির্ভাব নিয়ে অনেকেই অনেক রকম ভবিষ্যতবাণী করেছেন। কিন্তু আমরা এ ধরনের ভবিষ্যত বাণী মেনে নিতে পারিনা। কারন ইসলামের বিধান অনুসারে এই ধরনের ভবিষ্যত বানী মানা হারাম। তবে এই বিষয়ে হাদীস শরীফে যেহেতু সুস্পষ্ট কোন কিছু বলা নাই তাই এই সম্বন্ধে নীরবতা পালন করাই ভাল। কেননা আল্লাহই এ সম্পর্কে ভাল জানেন।


ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশের পূর্বে ও পরে পৃথিবীতে যেসকল বিপদাপদ ও লক্ষণ প্রকাশিত হবে সেসব সম্বন্ধে পবিত্র হাদীস শরীফে সুস্পষ্ট বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। আমি সেসব তুলে ধরার চেষ্টা করছি।


একের পর এক বিপদ আসা


হযরত হোজায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, একটি খাটের যেমন একটি তক্তার পর আরেকটি তক্তা হয়, সেরকম বিপদাপদও হৃদয়ের উপর পতিত হবে। যে হৃদয় তা পান করবে তার উপর একটি সাদা চিহ্ন অংকিত হবে। এইভাবে দুটি হৃদয় হবে। একটি শেত পাথরের মত শুভ্র হবে। যে পর্যন্ত জমীন ও আসমান বিদ্যমান থাকবে সে পর্যন্ত কোনও বিপদাপদ তার বিনষ্ট করতে পারবেনা। অন্য হৃদয়টি উলটানো পানির পেয়ালার মত কালো ও অপ রিষ্কার হবে। এটা কোন প্রকার ন্যায় ও মঙ্গল জানবে না এবং অমঙ্গলকেও প রিত্যাগ করবে না। কিন্তু সেচ্ছাকৃত ইচ্ছা দিয়ে পরিচালিত হবে।
(মুসলিম শরীফ)


দুর্বল ঈমান এবং আমানত


হযরত হোজায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) আমাদের কাছে দুইটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারমধ্যে একটি আমি দেখেছি এবং অন্যটির জন্য অপেক্ষা করছি (অর্থাৎ একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছে এবং অন্যটি এখনো ঘটেনি)। ঈমান এবং আমানত মানুষের কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাবে। তিনি আরো বলেন যে মানুষ পবিত্র কোরআন ও হাদীসের শিক্ষা ভুলে যাবে। তিনি আরো বললেন যে, কোন লোক নিদ্রায় যাবে তারপর তার অন্তর থেকে আমানত নিয়ে নেয়া হবে। শুধু একটি বিন্দুর মত দাগ থাকবে। এরপর সে আবার নিদ্রামগ্ন হবে এবং অবশিষ্ট আমানত তুলে নেয়া হবে। তখন মানুষ ব্যবসা করবার জন্য সকালে বাসা থেকে বের হবে কিন্তু কেউই আমানত ফেরত দিবে না। বলা হবে অমুক অমুক ব্যক্তি বিশ্বাসী এবং কোনও কোনও ব্যক্তিকে বলা হবে যে সে অনেক জ্ঞানী! সে কি চতুর! সে কি মার্জিত! কিন্তু সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও তার মধ্যে থাকবে না।
(বোখারী ও মুসলিম শরীফ)


সময় দ্রুত চলে যাওয়া


হযরত আবু হোরায়রা (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, সময় নিকটবর্তী হবে (অর্থাৎ যাতায়াত এবং সংবাদ আদান প্রদানে বেশী সময় লাগবে না। এবং ধর্ম বিদ্যার মৃত্যু হবে। বিপদাপদ দেখা দিবে, কৃপণতা দেখা দিবে এবং হারাজ বেড়ে যাবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন ‘হারাজ’ কি? উত্তরে আল্লাহর হাবীব আমাদের প্রিয় নবী হযরত (সাঃ) বললেন, হত্যা।
(বোখারী ও মুসলীম)
বর্তমান যান্ত্রিক যুগে রেল, স্টি

মার, বিমান ও গাড়ীর সাহায্যে যাতায়াত অত্যন্ত সহজসাধ্য হয়ে গেছে এবং মোবাইল, ইন্টারনেট, রেডিও, টেলিভিশনের মাধ্যমে দ্রুত সংবাদ আদান প্রদান হচ্ছে এছাড়া বর্তমানে খুন একটি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে সারা বিশ্ব জুড়ে।


আখিরাতের উপর দুনিয়ার প্রাধান্য


হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, অন্ধকার রজনীর এক অংশ সদৃশ বিপদাপদের মধ্যেও সৎ কাজের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও। কোন লোক সকালে মুমীন হয়ে বের হবে কিন্তু সন্ধ্যাবেলা কাফের হয়ে ফিরবে। আবার সন্ধ্যাবেলা মুমীন হবে কিন্তু সকালে আবার কাফের হবে। এই পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী সহায়- সম্পত্তির বিনিময়ে তারা তাদের ধর্মকে বিক্রি করবে (অর্থাৎ ঈমানের কোনো শক্তিই থাকবে না।
(মুসলিম শরীফ)


জনসাধারনের কাজ পরিত্যাগ


হযরত আবু বাকরাহ (রাঃ) হতে ব র্ণিত আছে যে, রাসূল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, অতি শীঘ্রই বিপদাপদ আপতিত হবে। সাবধান! ক্রমাগত বিপদাপদ ঘটবে। সাবধান! পুনরায় বিপদাপদ নেমে আসবে। তখন বসে থাকা ব্যক্তি পথ চলা ব্যক্তি হতে উত্তম হবে এবং পথ চলা ব্যক্তি দৌড়ে লিপ্ত থাকা ব্যক্তি হতে উত্তম হবে।


সাবধান! যখন এটা ঘটতে থাকবে তখন ছাগল ও মেষের অধিকারী যেন তার নিজের ছাগল এবং মেষের নিকটেই থাকে। আর যার জমি আছে সে যেন তার জমির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! যার উট, মেষ, ছাগল বা জমি নাই তার কি অবস্থা হবে ?


উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন, সে যেন তার তরবারি পাথরের সাহায্যে শান দিতে থাকে এবং সম্ভব হলে জয়ী হয়। হে আল্লাহ! আমি কি আমার সংবাদ পৌঁছে দিয়েছি ? (তিনি তিনবার এই কথা বললেন)


অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাকে পছন্দ না করা হয় এবং আমাকে কোন পাহাড়ে নিয়ে কেউ যদি তরবারি দিয়ে আমাকে আঘাত করে কিংবা তীর এসে যদি আমাকে হত্যা করে তখন আমার অবস্থা কি হবে? এর উত্তরে রাসূল (সাঃ) বললেন, সে তোমার এবং তার গোনাহর বোঝা করবে এবং জাহান্নামে নীত হবে।
(বোখারী ও মুসলিম শরীফ)


হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলে করীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তখন তোমার কি অবস্থা হবে যখন তুমি দুষ্টু লোকদের ভিতরে পতিত হবে? তাদের সন্ধিনামা ও আমানত নষ্ট হয়ে যাবে এবং তারা মতবিরোধে লিপ্ত হতে থাকবে। তারা হবে এরকম (এ বলে রাসূল (সাঃ) স্বীয় অজ্ঞুলি সমূহকে আলাদা করে দেখালেন) তখন সে বললো, তখন আপনি আমাকে কি করতে নির্দেশ দেন? এর রাসূল (সাঃ) বললেন, তুমি যা জান তা সম্পাদন করবে এবং যা জান না তা পরিত্যাগ করবে। তুমি নিজের কাজে ব্যস্ত থাকবে এবং জনসাধারনের কাজ পরিত্যাগ করবে এবং তোমার রসনাকে সংযত করবে। তুমি যা জান তা গ্রহন করবে এবং যা জান না তা গ্রহন করবে না। তুমি তোমার নিজের ব্যাপারে নিবিষ্ট থাকবে এবং জন সাধারনের কাজ পরিত্যাগ করবে।
(তিরমিজী শরীফ)


ঘরে ঘরে বিপদ আপদ


হযরত ওমাছাহ বিন জায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) একবার মদীনা শরীফের উচ্চ স্থানের মধ্যে একটি সুউচ্চ পর্বতে উঠে বললেন, আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখছো? সাহাবাগণ উত্তরে বললো না। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন আমি বৃষ্টিপাতের ন্যায় তোমাদের ঘরে বিপদ-আপদ নিপতিত হতে দেখছি।
(বোখারী ও মুসলীম শরীফ)


ওবান (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা:) বলেন: তোমাদের রত্ন-ভাণ্ডারের কাছে তিনজন খলীফা-সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কেউই দখলে সফল হবে না। প্রাচ্য থেকে তখন একদল কালো ঝাণ্ডা-বাহী লোকের আবির্ভাব হবে। তারা এসে তোমাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করবে। ছাওবান বলেন-অতঃপর নবীজী কি যেন বললেন, আমার ঠিক স্মরণ নেই। এরপর নবীজী বললেন-যখন তোমরা তা দেখতে পাবে, অখন তাঁর কাছে এসে বায়াআত হয়ে যেয়ো! যদিও তা করতে তোমাদের হামাগুড়ি দিয়ে বরফের পাহাড় পাড়ি দিতে হয়…!!
(ইবনে মাজা)


খলীফা-সন্তান: অর্থাৎ তিনজন সেনাপতি। সবাই বাদশার সন্তান হবে। পিতার রাজত্বের দোহাই দিয়ে সবাই ক্ষমতা দাবী করবে।


রত্ন-ভাণ্ডার: কাবা ঘরের নিচে প্রোথিত রত্নও উদ্দেশ্য হতে পারে। নিছক রাজত্বও উদ্দেশ্য হতে পারে। কারো কারো মতে রত্ন বলতে এখানে ফুরাত নদীর উন্মোচিত স্বর্ণ-পর্বত উদ্দেশ্য।


ইবনে কাছীর (রহ:) বলেন: মাহদীকে প্রাচ্যের নিষ্ঠাবান একটি দলের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হবে। তারা মাহদীকে সহায়তা করবে এবং মাহদীর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের পতাকাও কালো বর্ণের হবে। এটা গাম্ভীর্যের প্রতীক। কারন, নবী করীম (সা:) এর পতাকাও কালো ছিল। নাম ছিল উকাব।


আবু সাঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা:) বলেন-আমার শেষ উম্মতের মাঝে মাহদী প্রকাশ পাবে। আল্লাহ্ তাদের উপর কল্যাণের বারিধারা বর্ষণ করবেন। ভূপৃষ্ঠ থেকে গচ্ছিত সকল খনিজ সম্পদ উন্মোচিত হবে। ধন সম্পদের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করবে। সাত বা আট বছর সে রাজ্বত করবে…
[মুস্তাদরাকে হাকিম]


অপর বর্ণনায়- তাঁর মৃত্যুর পর আর কোন কল্যাণ থাকবে না…[মুসনাদে আহমদ]
বুঝা গেল মাহদীর মৃত্যুর পর পুনরায় ফেতনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে।
বিন বায (রহ:) বলেন: মাহদী প্রকাশের বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ। এ ব্যাপারে নবী কারীম (সা:) থেকে প্রচুর হাদিস প্রমাণিত রয়েছে। একাধিক সাহাবী থেকে পরস্পর বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ্র অপার রহমতে তিনি শেষ জামানায় ইমাম হবেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। অন্যায়-অবিচার দমন করবেন। শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবেন। তার আত্মপ্রকাশে উম্মতের মধ্যে জিহাদের চেতনা ফিরে আসবে। সকলেই এক কালেমার পতাকা তলে একত্রিত হয়ে যাবে।


আবু সাঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- আমি তোমাদেরকে মাহদীর সুসংবাদ দিচ্ছি। ভূ-কম্পন ও মানুষের বিভেব কালে তার আগমন ঘটবে। ন্যায় নিষ্ঠায় পৃথিবী ভরে দেবে, ঠিক যেমন অন্যায় অবিচার ভরে গিয়েছিল। আসমান জমিনের অধিবাসীগণ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। ধন সম্পদের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করবে। ‘সুসম কি’ জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছেন- সমান ভাবে। আল্লাহ্ ন্যায়ের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীকে পূর্ণ করে দিবেন। এমনকি একজন ঘোষক ঘোষণা করবে- কারো কি সম্পদের প্রয়োজন আছে? একজন দাড়িয়ে বলবে-দায়িত্বশীলকে বল- মাহদী আমাকে সম্পদ দিতে বলেছে। দায়িত্বশীল বলবে- উঠাও যা পার! আঁচল ভরে স্বর্ণ রৌপ্য উঠাতে চাইলে লজ্জিত হয়ে বলবে- আমি নিজেকে সবার চেয়ে শক্তিশালী মনে করতাম, কিন্তু আজ এগুলো বহন করতে অপারগ হয়ে গেছি। এ কথা বলে সবকিছু আবার দায়িত্বশীলকে ফিরিয়ে দিতে চাইলে দায়িত্বশীল বলবে- এখানে প্রদত্ত মাল ফেরৎ নেয়া হয় না। এভাবেই মাহদীর রাজত্ব সাত, আট বা নয় বছর পর্যন্ত থাকবে। মাহদীর পর জীবনে আর কোন কল্যাণ থাকবে না…
[আল মুসনাদ]


আলী (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- মাহদী আমার বংশধর। এক রাত্রিতে আল্লাহ্ পাক তাকে নেতৃত্বের যোগ্য বানিয়ে দেবেন।


বুঝা গেল ইমাম মাহদী (মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ) নিজেও জানবেন না যে, হাদিসে উল্লেখিত ব্যক্তিটি তিনিই। আগেভাগে গিয়ে খিলাফতও কামনা করবেন না। নম্রতা বসত নিজেকে তিনি নেতৃত্বের অযোগ্য মনে করবেন। আর তাই প্রবল অনিচ্ছা সত্তেও মানুষ জোর করে তার হাতে বায়াআত হয়ে যাবে।


উম্মে সালামা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- মাহদী আমার বংশে ফাতেমার সন্তানদের মধ্যে হবে… [আবু দাউদ]


জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- মরিয়ম তনয় ঈসা (আ:) আসমান হতে অবতরণ করবেন। মুসলমানদের সেনা প্রধান মাহদী তাকে স্বাগত জানিয়ে বলবে- আসুন! নামাযের ইমামতি করুন! ঈসা (আ:) বলবেন না! (বরং তুমিই ইমামতি করো!) তোমাদের একজন অপরজনের নেতা। এই উম্মতের জন্য আল্লাহ্র পক্ষ থেকে এ এক মহা সম্মান।
বুঝা গেল মাহদীর সময়ই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। অতঃপর দাজ্জালকে হত্যা করতে আসমান থেকে ঈসা বিন মারিয়াম (আ:) আবতরন করবেন। ইমাম মাহদীই তখন মুসলিম সেনা প্রধান থাকবেন। ঈসা (আ:) এবং অন্য সকল মুমিন ইমাম মাহদীর পেছনে ফজরের নামায আদায় করবেন।


আবু সাঈদ (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন, মরিয়ম তনয় ঈসা যার পেছনে নামায আদায় করবেন, সে আমার উম্মতেরই একজন সদস্য।


অর্থাৎ মাহদী নামাযের ইমামতি করবেন। মুসল্লিদের কাতারে ঈসা (আ:) শামিল থাকবেন।
জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- অচিরেই ইরাক বাসীর কাছে খাদ্যদ্রব্য ও রৌপ্যমুদ্রা সরবরাহের নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে। আমরা বললাম- কাদের পক্ষ থেকে এরকম করা হবে? উত্তরে বললেন- অনারব। অতঃপর বললেন- অচিরেই শাম-বাসীর কাছে খাদ্যদ্রব্য ও স্বর্ণমুদ্রা সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে। কাদের পক্ষ থেকে করা হবে- প্রশ্নের উত্তরে বললেন- রোমান (খৃষ্টান)। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন- আমার শেষ উম্মতের মাঝে একজন খলীফার আবির্ভাব ঘটবে, বে-হিসাব মানুষের মাঝে সে সম্পদ বিলি করবে।


জাবের বিন ছামুরা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা আলীকে নিয়ে আমি নবী করীম (সা:) এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন বলছিলেন- পৃথিবী সমাপ্তির পূর্বে অবশ্যই বারোজন নিষ্ঠাবান খলীফা অতিবাহিত হবেন। অতঃপত কি যেন বললেন- ঠিক বুঝিনি! আব্বুকে জিজ্ঞেস করলে- সবাই কুরায়েশ বংশের বললেন… [মুসলিম]


ইবনে কাছীর (রহ:) বলেন- বুঝা গেল মুসলমানদের খলীফা হিসেবে বারোজন নিষ্ঠা পূর্ণ ব্যক্তির আগমন ঘটবে। তবে শিয়া সম্প্রদায়ের ধারনা কৃত বারোজন নয়; কারন, তাদের অধিকাংশেরই খেলাফত সংক্রান্ত কোন কর্তৃত্ব ছিল না। পক্ষান্তরে প্রকৃত বারোজন খলীফা সবাই কুরায়েশ বংশীয় হবেন এবং মুসলমানদের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে আভিভূত হবেন… [তাফছীর ইবনে কাছীর]


উম্মুল মুমেনীন উম্মে সালামা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা:) বলেন- জনৈক খলীফার মৃত্যুকে কেন্দ্র বিরোধ সৃষ্টি হবে। মদিনার একজন লোক তখন পালিয়ে মক্কায় চলে আসবে। মক্কার লোকেরা তাকে খুঁজে বের করে অনিচ্ছা সত্তেও রুকন এবং মাক্কামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি স্থানে বায়াআত গ্রহণ করবে। বায়াআতের খবর শুনে শামের দিক থেকে এক বিশাল বাহিনী প্রেরিত হবে। মক্কা-মদিনার মাঝামাঝি বায়দা প্রান্তরে তাদেরকে মাটির নিচে ধ্বসে দেয়া হবে। বাহিনী ধ্বসের সংবাদ শুনে শাম ও ইরাকের শ্রেষ্ঠ মুসলমানগণ মক্কায় এসে রুকন ও মাক্কামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি তাঁর হাতে বায়াআত গ্রহণ করবে। অতঃপর বনু কালব সম্বন্ধীয় এক কুরায়শীর আবির্ভাব হবে। শামের দিকে থেকে সে বাহিনী প্রেরণ করবে। মক্কার নব উত্থিত মুসলিম বাহিনী তাদের উপর বিজয়ী হয়ে প্রচুর যুদ্ধলদ্ধ সম্পদ অর্জন করবে। সেদিন বনু কালবের সর্বনাশ ঘটবে। যে বনু কালব থেকে অর্জিত সম্পদ প্রত্যক্ষ করেনি, সেই প্রকৃত বঞ্চিত। অতঃপর মানুষের মাঝে তিনি সম্পদ বণ্টন করবেন। নববী আদর্শের বাস্তবায়ন ঘটাবেন। উট যেমন প্রশান্তচিত্তে গলা বিছিয়ে আরাম পায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইসলামও সেদিন ভূ-পৃষ্ঠে প্রশান্তচিত্তে স্থির পাবে। সাত বৎসর এভাবে রাজত্ব করে তিনি ইন্তেকাল করবেন, মুসলমানগণ তার জানায়ায় শরীক হবে… [আবু দাউদ]


কিয়ামতের আলামত


• কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান:


কিয়ামত কখন সঙ্ঘঠিত হবে এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো জানা নেই। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:
লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, বল, এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লাহরই আছে, আর তোমার কি জানা আছে, কিয়ামত হয়ত খুব নিকটে।[১]


কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ:


নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের পূর্বে সংঘঠিতব্য কতিপয় আলামত ও নিদর্শনাবলী সম্পর্কে আমাদের বলেছেন, যেগুলো কিয়ামত অতি নিকটে মর্মে প্রমাণ করে। বর্ণিত নিদর্শনাবলী দু’ ধরণের ; আলামতে সুগরা তথা ছোট ছোট নিদর্শন, আলামতে কুবরা বা বড় বড় নিদর্শন।


১- কিয়ামতের ছোট ছোট নিদর্শনাবলী


• কিয়ামতের ছোট ছোট নিদর্শনাবলী তিন ধরণের:


১- এমন এমন নিদর্শনাবলী যা সঙ্ঘঠিত হয়েছে এবং শেষও হয়ে গিয়েছে :
যেমন, নবীজীর আগমণ এবং প্রস্থান, তাঁর সত্যতার নিদর্শন স্বরূপ চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া, বাইতুল মুকাদ্দাসের বিজয় সূচিত হওয়া এবং হিজাযে অগ্নোৎপাতের ঘটনা ঘটা।
সাহাবী আউফ বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তুমি কিয়ামতের পূর্বে সঙ্ঘঠিতব্য ছয়টি বিষয় গননা কর; আমার মৃত্যু, অত:পর বাইতুল মুকাদ্দাসের বিজয়…।
বোখারী: ৩১৭৬


বিশিষ্ট সাহাবী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: হেজায থেকে একটি অগ্নোৎপাতের ঘটনা ঘটবে, ঐ আগুন বসরায় থাকা উঁটের গ্রীবা আলোকিত করে দেবে। অগ্নোৎপাতের উল্লেখিত ঘটনা ঘটার পূর্বে কিয়ামত সঙ্ঘঠিত হবে না।
বর্ণনায়: বোখারী:৭১১৮ ও মুসলিম : ২৯০২।


২-এমন আলামত যা প্রকাশ পেয়ে এখনও বিদ্যমান আছে :
যেমন: বিভিন্ন ফেতনার আবির্ভাব.. নবওয়্যতের মিথ্যা দাবিদারের আত্মপ্রকাশ ..


শরয়ী ইলম উঠিয়ে নেয়া.. অজ্ঞতার ব্যাপক উপস্থিতি.. নিরাপত্তা কর্মী ও অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া.. বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র প্রকাশ পাওয়া ও একে হালাল মনে করা.. যিনা-ব্যভিচার ব্যাপক হয়ে যাওয়া..ব্যাপকহারে মদ্য পান ও একে হালাল মনে করা.. নাঙ্গা পা, নাঙ্গা বদন ও বকরীর রাখালদের বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ অর্থাৎ সমাজের নিম্ন শ্রেণীর লোকদের সম্পদের দিক থেকে ব্যাপক উত্থান.. মসজিদ ও তার কারুকার্য নিয়ে লোকদের গর্ববোধ ও প্রতিযোগিতা..হত্যাকান্ড বৃদ্ধি পাওয়া .. সময় খাটো ও সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া..

One thought on “ইমাম মাহদীর আগমনের আলামত সমূহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *