করোনায় নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ীর মৃত্যু, তিনশ পরিবার লকডাউন

করোনা আক্রান্ত হয়ে এক হোসিয়ারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে৷ শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের নাম আবু সাইদ মাতবর। তার বয়স ৫৫ বছর। তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুচিন্তানগর এলাকার বাসিন্দা।

এদিকে করোনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় কাশিপুর আট নম্বর ওয়ার্ডের সুচিন্তাপুর ও আমবাগান এলাকায় প্রায় ৩শ বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। শনিবার গভীর রাতে এসব বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়ন

নিহতের ছেলে মেহেদী হাসান রবিন বলেন, তার বাবা গত দুইদিন যাবত শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে ভুগছিলেন। শরীরের অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে কুর্মিটোলা নিয়ে যাবার কথা বলে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে শনিবার সকাল ৯টায় মারা যান তিনি। আইইডিসিআর থেকে লোকজন এসে পরীক্ষা করে করোনার কথা জানায়।

মেহেদী হাসান আরও জানান, তার বাবার ডেথ সার্টিফিকেটেও করোনায় মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে৷ লাশ আইইডিসিআর এর লোকজনের তত্ত্বাবধানে ঢাকার খিলগাওয়ে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, আইইডিসিআর থেকে এ বিষয়ে আামাদের নিশ্চিত করা হয়েছে।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরাও ডেথ সার্টিফিকেটের একটা কপি ফেসবুকের মাধ্যমে পেয়েছি৷ এলাকাবাসীও জানিয়েছেন৷ আমরা ওই এলাকায় মেডিকেল টিম নিয়ে গিয়ে নিহতের বাড়িসহ আশেপাশের দুটি মহল্লা লক ডাউন করে দিয়েছি।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে কাশিপুর সুচিন্তাপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে জানতে পেরে শনিবার রাতেই ঘটনাস্থালে গিয়ে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগিতায় আরামবাগ ও নিশ্চিন্তপুর দুই মহল্লার প্রায় ৩ শতাধিক পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। ওই নিহত ব্যক্তির সংম্পর্শে যারা এসেছে তাদের চিহিৃত করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর কাজ চলছে।

তিনি বলেন, লকডাউনে থাকা পরিবারের সদস্যদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, ডালসহ প্রয়োজনী সামগ্রী সরবরাহ করা হবে। কেউ যাতে ওই দুটি মহল্লা থেকে বের হতে না পারে সেজন্য পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দুটি মহল্লায় প্রবেশের তিন পথ টিন দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন টেলিফোনে জানান, নারায়ণগঞ্জের কাশিপুর নিশ্চিন্তপুরে এক ব্যবসায়ী করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বিষয়টি রাতে আইইডিসিআর থেকে আমাদের জানানোর পর উপজেলা স্থাস্থ্য কর্মকর্তা ও জেলা করোনা ফোকাল ডাক্তার জাহিদুর রহমানের ও উপজেলা প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় ওই এলাকার প্রায় তিন শতাধিক পরিবারকে লকডাউন করেন। লক ডাউনে থাকা পরিবারে কোন সদস্যের যদি করোনার কোন উপসর্গ দেখা দেয় তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ তাদের জানালে আমারা গিয়ে তার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসবো। তিনি বলেন, লকডাউন মানে সবাই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবে।

উল্লেখ্য এর আগে গত ৩০ মার্চ করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রসুলবাগের পুতুল (৫০) নামের এক নারী। এরপর গত ২ এপ্রিল তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা আক্রান্তের বিষয়টি শনাক্ত হয়। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *