ভেন্টিলেটর আবিষ্কার করলো ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী

দেশীয় বাজারে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটরের যোগান দিতে সাশ্রয়ী মূল্যের ভেন্টিলেটর আবিষ্কার করেছে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ঢাকা কলেজ বিজ্ঞান ক্লাবের সদস্য সানি জুবায়ের।

যেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরবর্তী সময়ে রোগীর চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই, এমন অবস্থায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীর এমন আবিষ্কার অন্ধকারে আশার আলো দেখাচ্ছে।

নিজের উদ্ভাবিত এই সাশ্রয়ী ভেন্টিলেটর সম্পর্কে সানি জুবায়ের দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘আমরা বাইরের দেশ থেকে যে ভেন্টিলেটর আনি এগুলোর দাম অনেক বেশি। ঐ ভেন্টিলেটর বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। শুধু যে শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ তেমন না অনেক ক্যাটাগরি থাকে। বর্তমানে করোনা চিকিৎসার জন্য যেটা প্রয়োজন তা হলো ভেন্টিলেটরের সাহায্যে ফুসফুসে অক্সিজেন সাপ্লাই দেওয়া এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করা। আর এই কাজটা করা হয় মেকানিক্যাল ভাবে। আমার তৈরি ভেন্টিলেটর পুরোপুরি এই কাজ করতে সক্ষম।’

তিনি বলেন, ‘ভেন্টিলেটরের নলটা যখন শ্বাসযন্ত্রে ঢুকানো হবে তখন নির্দিষ্ট সময়ে বাতাসের প্রেসার, শ্বাস-প্রশ্বাসের রেট সিলেক্ট করে দেওয়া যাবে। আর রোগীর ক্ষেত্রে এটা ভিন্ন হতে পারে। আমি যদি রেস্পিরেটরি রেট ২৪ করে দেই তাহলে প্রতি মিনিটে ফুসফুস ২৪ বার খুলবে ও বন্ধ হয়ে অক্সিজেন সাপ্লাই করবে ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করবে।’

জুবায়ের বলেন, ‘আমি আমার সিস্টেমটাকে এমনভাবে তৈরি করেছি যেটা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন সাপ্লাই দিতে সক্ষম। তবে এটার কাজ হবে শুধুমাত্র শ্বাসক্রিয়াকে যান্ত্রিকভাবে চালনা করা।’

করোনায় আক্রান্ত রোগীদের শুধুমাত্র শ্বাসক্রিয়া চালানোর কাজে ভেন্টিলেটর ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই ভেন্টিলেটরটি শুধু এই কাজটাই করতে সক্ষম তাই এটি ব্যবহার করলে সহজলভ্য এবং অনেক করোনা রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।’

সানি জুবায়েরের তৈরি ভেন্টিলেটরটির মূল কাজ যেহেতু অক্সিজেন প্রবেশ করানো আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করে নিয়ে আসা তাই এটাকে সম্পূর্ণভাবে একটা কন্ট্রোলার এবং রাজবেরি পাই নামক একটি সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভেন্টিলেটরের কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য এটিতে আইপিএস ব্যবহার করা যাবে।

এমন একটি ভেন্টিলেটার মাত্র সাত হাজার টাকার মধ্যে তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে এর আরও উন্নয়ন করা যাবে বলে জানান তিনি।

সরকারের সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করলে খরচ আরও কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। ভেন্টিলেটর তৈরির সময় করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে চাহিদা অনুযায়ী এই ভেন্টিলেটর তৈরি করেছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিভাবে ভেন্টিলেটরটি কাজ করছে তার একটা ভিডিও আমি ঐ চিকিৎসককে পাঠিয়েছি। তারা বলেছে ঠিক আছে, এভাবেই ভেন্টিলেটর কাজ করে।’

এই মুহূর্তে সরকারি সহায়তায় এটি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি সম্ভব বলেও জানান তিনি।

নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর এমন উদ্ভাবনে সকল ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে এমন আবিষ্কার সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা ভেন্টিলেটর তৈরি করতে চেষ্টা করছে এমন এটি ঢাকা কলেজের জন্য গর্বের ব্যাপার। ঢাকা কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরণের সহযোগিতা এবং শুভকামনা থাকবে।’

প্রসঙ্গত, সানি জুবায়ের ‘টিম অ্যাটলাস’ এর প্রতিষ্ঠাতা। টিম লিডার হয়ে সে আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে প্রথম স্থান, মেক্সেলারেশন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) আয়োজিত টেকনিভ্যাল ২০১৮-তে চ্যাম্পিয়ন এবং ন্যাশনাল রোবটিক ফেস্টিভাল ২০১৭-তে চ্যাম্পিয়ন হয়।

ন্যাশনাল রোবট অলিম্পিয়াড ২০১৯ এ স্বর্ণ জয়, ইন্ট্যারন্যাশলান রোবট অলিম্পিয়াড ২০১৯ এ ব্রোঞ্জ জয় করে। এছাড়া তারই নেতৃত্বে ২০১৯ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড রোবটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ১৩তম অবস্থান করে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *