সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন? এভাবে প্রতারণার শিকার হতে পারেন


are-you-complaining-on-social-media-delhi-police-advising-you

বর্তমানে আমরা এক ডিজিটাল বিশ্বের ‘নেটাগরিক’, অন্তর্জাল থেকে যাদের মুহূর্তের বিরাম নেই। ব্যাপ্তির দিক থেকে বিশাল, রঙচঙে এই সাইবার দুনিয়ার মোড়কে মোড়কে অবশ্য অন্ধকার বিপদের হাতছানি; যাকে এড়িয়ে যেতে হলে বেশ কিছু সতর্কতা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সম্প্রতি দিল্লী পুলিশ আরো একবার এই সতর্কতার কথা উচ্চারণ করে আমজনতাকে ডিজিটাল জোচ্চুরি এবং সাইবার প্রতারণার খপ্পর থেকে শতহস্ত দূরে থাকার পরামর্শ দিল। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন পাবলিক ফোরামে (Public Forum) এবং সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) প্ল্যাটফর্মগুলিকে চিহ্নিত করেছেন যেখানে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মতামত ব্যক্ত করে থাকি; কখনো বা কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের পরিষেবায় অসন্তুষ্ট হয়ে উগরে দিই যাবতীয় ক্ষোভ। কিন্তু এই পদক্ষেপই আপনাকে অভিনব প্রতারণার সম্মুখীন করতে পারে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন অসাধু চক্র আপনার গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সিঁধ কেটে আপনাকে সর্বস্বান্তও করতে পারে!

আজ্ঞে হ্যাঁ, দুর্জনের যেমন ছলের অভাব হয় না, তেমনই সাইবার প্রতারকদের ঝুলিতে থাকে নিত্য নতুন ফাঁদ, যার মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বোকা বানায়। আসলে এখন আমরা প্রত্যেকেই আমাদের স্মার্টফোনে বিভিন্ন ই-ওয়ালেট, ব্যাঙ্ক অ্যাপ বা এয়ারলাইন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে থাকি। এদের কোন পরিষেবা আমাদের মনঃপূত না হলে বা চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে, আমরা অনেকেই ফেসবুক বা টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকি। দিল্লী পুলিশের বক্তব্য প্রতারকেরা এইসব অভিযোগকারীদের চিহ্নিত করছেন এবং অভিযুক্ত সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের গোপন তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

এই কারণেই দিল্লী পুলিশের কন্ঠে আগাম সতর্কবাণী! তাদের সাইবার ক্রাইম বিভাগের টুইটে তারা এমনই একটি প্রতারণার কথা উল্লেখ করেছেন – “সম্প্রতি একজন ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহারকারী টুইটারে তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপরেই তিনি একটি ফেক টুইটার হ্যান্ডেলের দ্বারা আক্রান্ত হন, যারা নিজেদের ওয়ালেটটির স্বীকৃত গ্রাহক প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর ব্যবহারকারী তাদের কাছে নিজের গোপন তথ্যগুলি প্রকাশ করলে শেষ পর্যন্ত তার প্রায় ৯ লক্ষ টাকা লোকসান হয়।”

শুধুমাত্র সতর্ক করাই নয়, ঠিক কিভাবে এইধরণের প্রতারণার হাত থেকে রেহাই মিলবে, দিল্লী পুলিশের পক্ষ থেকে সেটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এজন্য ডিজিটাল ওয়ালেট বা ব্যাঙ্ক অ্যাপ ব্যবহারকারীকেই জরুরী প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো অভিযোগ জানানোর জন্য তাদের সঠিক গ্রাহক প্রতিনিধি নম্বর বা ই-মেইল আইডির মাধ্যমে সংস্থার সাথে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া সর্বদাই মনে রাখা প্রয়োজন যে, কোন যথাযথ ব্যাঙ্ক, ওয়ালেট বা এয়ারলাইন সংস্থা রিফান্ডের জন্য আমাদের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত গোপন তথ্য যেমন – সিভিভি, পিন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড জানতে চায় না। ফলে কোনো অবস্থাতেই এইধরণের একান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি কারো কাছে প্রকাশ না করার জন্য দিল্লী পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করেছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *